প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীনের অতীত ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়নের কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। তবে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাকে বহিষ্কারও করে ছাত্র ইউনিয়ন। শিবিরের সেই ‘গুপ্ত’ সদস্য এখন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তারা বলছেন, ছাত্রদল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারির মতো পদে স্থান না পেলেও শিবির ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে। এমন হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের রাজনীতির গুরুত্ব কমে যাবে।
আবু ফাহাদ নামের এক ব্যক্তি গত ২ মার্চ তার ফেসবুকে লিখেন, “আজ হঠাৎ জাহাঙ্গীরনগরে এনসিপি আর শিবিরের ঘরে ঘরে আনন্দের বাতাস বইছে। তাদের লোক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করেছে! কারা এরা যারা তারেক রহমানের চোখে ধুলো দিয়ে এসব করছে। এদের ফাইন্ড আউট না করা গেলে ভবিষ্যৎ খারাপ!”
পরেরদিন ৩ মার্চ নাজমুল হাসান নামের আরেকটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পাসের ছোট ভাই শাহাদাত স্বাধীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপ-প্রেস সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছে। ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের গর্ব হওয়ার কথা থাকলেও কিছু প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকায় গর্ব করতে পারতেছি না।
প্রথমতঃ স্বাধীন ২০১৯ সালেও ছাত্র ইউনিয়নের কমিটির প্রথমে সদস্য পরবর্তীতে সম্ভবত সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ছিলো। তৎকালীন সভাপতি বন্ধু জয় এবং অনিকের কমিটির পরের কমিটির সভাপতি অথবা সিনিয়র সহসভাপতি হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু পরের কমিটিতে সে কোন পদেই আর থাকে নাই। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন করবে তাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো অন্য জায়গায়। ১৯ সালে তৎকালীন ভিসি পতনের আন্দোলনের সময় আপনাদের মনে থাকার কথা ৪১ ব্যাচের সাদ শরীফ নামের একজনসহ দুইজনকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে সাদ শরীফের সাথে যে কয়জনের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের প্রমান পায় এরমধ্যে শাহাদত স্বাধীন একজন।এগুলো গোয়েন্দা সংস্থা তৎকালীন প্রক্টরিয়াল টিমের ফিরোজ স্যার এবং মেহেদী ইকবাল স্যারকে দিলে তারা এগুলো শাহাদাত স্বাধীনের কমিটির সভাপতি হিসেবে জয় এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া আরো কয়েকজনকে নিয়ে দেখায়। এখানে তৎকালীন আওয়ামি লীগ পন্থী শিক্ষক বশির স্যারের সাথে একটা মিটিং করানোর ব্যাপারে কথা ছিলো জয়ের সাথে।
এই তথ্যগুলো গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে ছিলো তারপরও কিভাবে এই ছেলে এমন একটি সেনসেটিভ পদের জন্য ক্লিনশিট পায়?
ওই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ধরে নিলাম সাংবাদিক হিসেবে সে সাদ শরীফের সাথে যোগাযোগ করছে। যেমন আরো সাংবাদিক করছে কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো ১৯/২০ সাল পর্যন্ত ছাত্র ইউনিয়ন করা একটা ছেলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিভাবে কার সুপারিশে এমন পদে নিয়োগ পায়? জাতীয়তাবাদী আদর্শে ছাত্রদল করা একজনও যদি এর থেকে যোগ্য না হয় তাহলে ছাত্রদল রেখে লাভ কি? বন্ধ করে দেন ছাত্রদলের রাজনীতি।
আরেকটি আলোচিত পোস্টে হাসান জামিল নামের আরেকজন ফেসবুকে লিখেন, সত্য মিথ্যা যাই হোক, শিবির এলিগেশনের কারণে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। উনার কাছে এই এলিগেশনের বিপক্ষে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল, যা তিনি সে সময়ে দিতে পারেননি, বা দিতে চাননি। যার প্রেক্ষিতে তাকে বের করে দেওয়া হয়। ক্যাফের দোতলায় এই মিটিং হয়েছিল, তা আমার স্পষ্ট মনে আছে। আর তাছাড়া, বিএনপি-জামাত আলাদা হইছে আট দিন হইলো। এখনো একজনের গায়ের গন্ধ আরেকজনের গায়ে এমনতেই লেগে আছে। শিবিরের সাথে বিএনপির যে ঘনিষ্টতা ছিল, তাতে একজন আরেকজনের লেংটু পর্যন্ত মুখস্তে রাখার কথা। এখন জাস্ট ট্যাগেই জাত চলে যায় কেন, এটা বুঝে আসে না। অবশ্য শিবিররেও শিবির বললে শিবিরের জাত চলে যায়।
তিনি আরো লেখেন, ‘আমার শিবির নিয়ে সমস্যা নাই। অনেক ভালো শিবিরও দেখছি, যাদের প্রতি সম্মান আসে। বাট, গুপ্ত শিবির ইজ অলওয়েজ এ ভাইরাস।’
নিজস্ব সংবাদদাতা 



